কক্সবাজারে মানব পাচার আইনের মামলায় চকরিয়ার ৫ অপহৃত উদ্ধার; আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের চিরুনি অভিযান।

মতামত

চকরিয়া-টেকনাফ ক্রাইম আপডেট | মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে অপহৃত পাঁচ কিশোর-যুবককে টেকনাফের দুর্গম জিম্মিদশা থেকে অক্ষত উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সুনির্দিষ্ট আস্তানায় তাদের আটকে রেখেছিল। সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে উদ্ধার হওয়া কিশোর-যুবকদের ছবি প্রকাশ করে এই সফল উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান।

 কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চকরিয়া থেকে অপহরণের এই লোমহর্ষক ঘটনায় গত ৮ জুন চকরিয়া থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস ও দূরদর্শী দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার পাহাড়ি এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপহৃত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ উদ্ধার হওয়া কিশোর-যুবকদের ইতিমধ্যেই নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। গত ৩১ মে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর এলাকা থেকে চারজন এবং বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন থেকে দুজনসহ মোট ছয়জনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর লোভ দেখিয়ে নিজেদের আস্তানায় জিম্মি করে অপহরণকারীরা। অপহৃতদের মধ্যে শাহারিয়ার কবির সোহাগ, মোহাম্মদ শহীদ হোসেন, মোহাম্মদ মাহিম ও ইসাদুল হোছাইন হামিম চকরিয়া উপজেলার কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাকি দুজন হলেন নুরুল আমিন মনু এবং মো. সিফাত।

কিন্তু জিম্মিদশা থেকে ৫ জন উদ্ধার হলেও, অপহৃত মোট ৬ জনের মধ্যে বাকি ১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চলছে! চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে নিখুঁত সোর্স এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এই মানব পাচার ও অপহরণের ঘটনায় কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ, তার ছেলে ইসরাক হোসেন এবং স্ত্রী তানিয়া বেগমকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি আরও জানান, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। মানব পাচার আইনের মামলার এই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বাকি ১ জনকে উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *