৩ দিনে ২১ লাশ! পাহাড় কাটার মানবসৃষ্ট পাপ আর প্রকৃতির নির্মম প্রতিশোধে উখিয়া ও কক্সবাজারে লাশের মিছিল। এই মৃত্যু থামবে কবে?

কক্সবাজার

 

কোরআন তিলাওয়াতরত শিশুদের ওপর ধসে পড়ল পাহাড়! ৩ দিনে ২১ লাশের মিছিল, উখিয়া শিবিরে কান্নার রোল

পাহাড় কাটার চরম মূল্য! ৩ দিনে ২১টি তাজা প্রাণের অকাল মৃত্যুতে কাঁপছে কক্সবাজার!

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে প্রকৃতির এক নির্মম ও ভয়াবহ আঘাত হেনেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একের পর এক পাহাড়ধসে ২১ জন মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ৮ জুলাই (২০২৬) দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘খাদিজাতুল কোবরা মহিলা হেফজখানা’ মাদ্রাসায় ঘটে যায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা।

মাদ্রাসার ভেতর তখন ৪০ থেকে ৫০ জন কোমলমতি শিশু পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে এবং পরে হাসপাতালে ৭ জন শিশু শিক্ষার্থী এবং ১ জন শিক্ষকসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস, ১৪ এপিবিএন ও স্থানীয়দের চেষ্টায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও রক্ষা করা যায়নি এই मासूम প্রাণগুলোকে। এর ঠিক দুদিন আগে, ৬ জুলাই রাতে উখিয়ার ৩টি পৃথক ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আরও ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে আলী আকবর (৫০) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা মারা যান। ৩ দিনে জেলাজুড়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে, যার মধ্যে ১৬ জনই রোহিঙ্গা।

 এটি কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি মানবসৃষ্ট পরিবেশগত সংকটের ফল। ২০১৭ সালে বনাঞ্চল উজাড় করে পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ার কারণে মাটির ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। তার ওপর ৪৩ বছরের রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টি এই বেলে মাটির পাহাড়গুলোকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। কেবল সাময়িক উদ্ধার অভিযান নয়, আন্তর্জাতিক তহবিল ও দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া উখিয়া আর কক্সবাজারের এই লাশের মিছিল থামানো অসম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *