এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন আর প্রকল্প নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। এই দাবি শুধু আমাদের না—এটা গোটা জাতির প্রতি সময়ের দায়।

উপজেলা

 

 

 

২০১৭ সালের কথা। ভিক্ষার থালার মতো ফেস্টুন হাতে কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা—শুধু আমি নই, ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকেরা। আমাদের একটিই দাবি ছিল—টেকসই বেড়িবাঁধ। নয়টি বছর পেরিয়ে গেছে। একাধিক জাতীয় বাজেট পাশ হয়েছে। সরকার এসেছে, গেছে। পাল্টেছে জনপ্রতিনিধি, কিন্তু পাল্টায়নি বাস্তবতা—আজও কুতুবদিয়ায় নেই কোনো কার্যকর বেড়িবাঁধ।

এই চরম বাস্তবতা শুধু প্রতিবাদ নয়, বেঁচে থাকার আর্তনাদ। কাগজে-কলমে অনেক প্রকল্পের ঘোষণা হয়তো হয়েছে, লোকদেখানো কিছু কাজও চোখে পড়েছে—কিন্তু কুতুবদিয়ার চারপাশে দাঁড়ালে যে কেউ বুঝে যাবে, এখনও আমরা রক্ষা পাচ্ছি না প্রকৃত বিপদ থেকে।

এই বেড়িবাঁধ কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি কুতুবদিয়ার মানুষের প্রাণ। আমাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি রক্ষার শেষ আশ্রয়। আমরা জানি, সাগরপাড়ে জন্ম আমাদের। সাগরে ভয় নেই, ভয় কেবল স্মৃতিময় গ্রাম, শেকড়, বাপ-দাদার ভিটা হারানোর।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, চুলায় আগুন জ্বলে না। ডুবে যায় সোনার ফসল, কৃষকের স্বপ্ন। মাছভরা পুকুরের পানি সাগরে চলে যায় এক নিমেষে। ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। আর এরই মধ্যে ত্রাণের নামে চলে লুটপাট—যার বড় একটা অংশ চলে যায় ক্ষমতাসীনদের পকেটে।

আমরা ত্রাণ চাই না, চাইনি কখনও। আমাদের একটাই দাবি—টেকসই বেড়িবাঁধ। চাই সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন। চাই না কোনো অসাধু ঠিকাদারের দুর্নীতিপূর্ণ, লোকদেখানো কাজ।

আজ যদি আমরা না দাঁড়াই, তাহলে হয়তো একদিন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ফেলে যাবে ত্রিশ হাত পানির নিচে। হয়তো হারিয়ে যাবে কুতুবদিয়ার নামটাই—সাগরের গর্ভে।

এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন আর প্রকল্প নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
এই দাবি শুধু আমাদের না—এটা গোটা জাতির প্রতি সময়ের দায়।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *