মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জনাব তারেক রহমান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
বিষয়: কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথে যাত্রী টোল আদায় বন্ধ ও ইজারা প্রথার পুনর্বিবেচনার আবেদন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম।
মহোদয়
বিনয়ের সাথে আবেদন এই যে, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথটি কুতুবদিয়া দ্বীপের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ-নির্ভর পথ। এই নৌপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই নৌপথে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকেই টোল আদায় করা হচ্ছে, যা দেশের পরিবহন নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক।
সড়কপথে যাত্রী টোল নেই, কিন্তু সাগরপথে কেনো?
মহোদয়,
দেশের অভ্যন্তরীণ সড়কপথে কোনো যাত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে টোল দিতে হয় না এটি সরকারি নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। সরকার জাতীয় মহাসড়ক ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও পথচারী বা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে কখনো টোল আদায় করা হয় না; টোল আদায় হয় কেবল যানবাহন বা বাণিজ্যিক পরিবহনের কাছ থেকে।
কিন্তু কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। ঈদের পরদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টোল আদায়ের বিষয়ে নিদর্শনা দিলেও তা মানছেনা সংশ্লিষ্টরা। এখানে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকেই টোল নেওয়া হচ্ছে। টোলের বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই ইজারাদার সিন্ডিকেট যাত্রীদের ওপর শারীরিক-মানসিক হয়রানি ও হুমকি প্রয়োগ করে এমন অভিযোগও রয়েছে।
অতএব দ্বীপবাসীর স্বাভাবিক প্রশ্ন!
“এক দেশে দুই আইন কেনো?”
নৌপথে সরকারি বিনিয়োগ কম, তবুও জনগণের ওপর আর্থিক চাপ!
সমুদ্র ও নৌপথের ঘাট, টার্মিনাল, প্রতিরক্ষা বাঁধ এসব স্থাপনা সড়কের মতো ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ পায় না।
তবুও এখানে যাত্রীদের ওপর টোল আরোপ করা স্থানীয়দের কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক এবং মানবিক বিবেচনায় অনুপযুক্ত মনে হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো,
ইজারা নেওয়া কিছু ব্যক্তি বহু বছর ধরে নৌপথটিকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে অতিরিক্ত টোল ও ভাড়া আদায় করছে, যেন অভ্যন্তরীণ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট!
“জনম জনম একই বোট-ইজারাদারের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে কেন?”
৮শ বছর ধরে ভোগান্তি থেকে প্রতিকার পাচ্ছেনা কুতুবদিয়াবাসী।
এমন ক্ষোভ প্রতিনিয়তই প্রকাশ করছেন দ্বীপবাসীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদারদের এই অতিরিক্ত আদায়ের অর্থ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কিছু সুবিধাভোগী কর্মচারী, কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, কিছু মিডিয়া কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিয়মিত সুবিধা পান বলে গুঞ্জন রয়েছে । ফলে কেউ মুখ খুলছেন না, বরং এ নির্যাতনি খড়গ দুর করতে যথাযথ ভুমিকা কামনা করছি ।
দ্বীপবাসীর সুস্পষ্ট দাবি —–
১. কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথে সড়কপথের মতোই যাত্রী টোল সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
২. ঘাট ইজারা প্রথা পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌযান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৩. যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া ও জোরপূর্বক টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. অভিযোগে উল্লিখিত সুবিধাভোগী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
৫. দ্বীপবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সরকারি নিয়ন্ত্রিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন–
আমরা দ্বীপবাসীরা বিশ্বাস করি আপনার নেতৃত্বেই দেশের অবহেলিত অঞ্চলের মানুষ ন্যায়, সমতা ও সুবিধা পাচ্ছে। কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথে যাত্রী টোল আদায় একটি বৈষম্যমূলক ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য প্রথা, যা অবিলম্বে বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাবে।
আমরা বিনীতভাবে আবেদন করছি—
নৌপথের টোল প্রথা বাতিল করে সারা দেশের মতো একীভূত নীতি প্রণয়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আপনার সদয় হস্তক্ষেপ দ্বীপবাসীর কষ্ট লাঘব করবে এবং দেশের অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সশ্রদ্ধ,
কুতুবদিয়াবাসীর পক্ষে —
(সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার )
সদস্য
কক্সবাজার প্রেসক্লাব :
সিনিয়র সহ সভাপতি
কুতুবদিয়া সমিতি কক্সবাজার :
সভাপতি
কুতুবদিয়া উন্নয়ন পরিষদ
উপকূল বাঁচাও আন্দোলন :
+৮৮০১৮১৯০০৯৬৯৯
email – humayunsikder78@gmail.com
তারিখ – ৩০ মার্চ ২০২৬

