লবণ চাষিদের আর্তনাদ,
বিপন্ন শিল্প ও বাঁচার আকুতিঃ
সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় দেখলাম, প্রতি কেজি লবণের দাম মাত্র ৪ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণের দাম দাঁড়ায় ১৬০ টাকা। অথচ বাস্তবতা আরও ভয়াবহ। মাঠ পর্যায়ে লবণ চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণ লবণ কেনা হচ্ছে মাত্র ১২০ টাকায়, যেখানে এক মণের হিসাবে নেওয়া হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ কেজি লবণ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক পর্যায়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও চাষিদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে—এটি ইতিবাচক। কিন্তু চাষিদের সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। লবণের মাঠ ইজারা নেওয়া, পলিথিন কেনা, শ্রমিক খরচ, লবণাক্ত পানি সেচের জন্য মেশিন ও ডিজেলের খরচ মেলালে প্রতি মণ লবণের উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। অথচ চাষিরা বিক্রি করছেন ১২০-১৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি মণে প্রায় অর্ধেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় শিল্প। এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারকে চাষিদের দুঃখ-দুর্দশা বুঝতে হবে। অবিলম্বে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে বিদেশে লবণ রপ্তানির বাজার খোঁজা জরুরি।
ইতিহাসে আমরা ‘নীল বিদ্রোহের’ কথা জানি। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে লবণ চাষিরাও হয়ত তেমন কোনো বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। কুতুবদিয়া তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ মানুষ সরাসরি লবণের ওপর নির্ভরশীল। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর, কিন্তু আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় তাদের এখন ত্রাহি অবস্থা। রমজানের এই আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বাজারে লবণ চাষিরা আজ দিশেহারা। নিজের সন্তানদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্যও হয়ত অনেকের হারিয়ে গেছে।
কুতুবদিয়ার সন্তান হিসেবে লবন চাষিদের এই অসহায়ত্ব আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এটি একটি মানবিক সংকট। সরকার যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবেই এই শ্রমজীবী মানুষগুলো একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে
এম রিদুয়ানুজ্জামান হেলালী
যুগ্ম সমন্বয়কারী
(এনসিপি) কুতুবদিয়া উপজেলা।

