“সীমান্তের ওপারে চলছে ভূ-রাজনীতির যুদ্ধ, আর এপারে ছড়ানো হচ্ছে গুজবের ভাইরাস। আতঙ্কিত না হয়ে সত্য জানুন, সচেতন থাকুন।”

কক্সবাজার

ওপারের যুদ্ধ বনাম এপারের গুজব: টেকনাফ সীমান্তে আসল সত্যটা কী?

সীমান্তে বারুদের গন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে মিথ্যা ভিডিও: বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতের জের ধরে গত দুদিন ধরে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা। ওপারে মংডু ও বুথিডং অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলার কারণে শাহ পরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই বাস্তব উত্তেজনাকে পুঁজি করে একদল লোক অনলাইনের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।

ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা:

সম্প্রতি ফেসবুকে ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হচ্ছে—এটি টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিমান হামলার সাম্প্রতিক দৃশ্য। গণমাধ্যমের ‘ফ্যাক্ট চেক’ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন নদীবন্দরে একটি তেলবাহী নৌযানে অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনাকে সাম্প্রতিক টেকনাফ সীমান্তের বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধের উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে সমাজকে আতঙ্কিত করতে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

অস্থিরতার সুযোগে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান:

সীমান্তের এই বাস্তব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র। শুধু ইয়াবা নয়, এবার দেশে ঢুকছে স্বয়ংক্রিয় ভারী অস্ত্র। সম্প্রতি সাবরাং সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), একটি অত্যাধুনিক জি-৩ rifle এবং একটি দেশীয় এলজি।

একই সাথে স্থল, নদী ও আকাশপথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কারবারিরা। সম্প্রতি পৃথক অভিযানে টেকনাফ ও নাফ নদী থেকে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ পাচারকারীদের আটক করা হয়েছে। এমনকি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক নারী যাত্রীর ব্যাগ থেকে এভিয়েশন সিকিউরিটি ৯,৮২৫ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের টহল এবং নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা ও অবক্ষয়:

সীমান্তের বাইরের এই অস্থিরতার মাঝেই চকরিয়ার খুটাখালীতে ঘটে গেছে এক নির্মম ট্র্যাজেডি। পৈতৃক বসতভিটার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাই আবদুর রহিমের দায়ের কোপে খুন হয়েছেন বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৫২)। রক্ত যখন নিজের রক্তের পিপাসু হয়, তখন আইন আর সামাজিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে।

অনলাইনে ছড়ানো কোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। চোখ-কান খোলা রাখুন, গুজব রুখে দিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *