কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও ১০০ শয্যায় বৃদ্ধি করন:

উপজেলা

কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা
সেবার মানোন্নয়ন ও ১০০ শয্যায় বৃদ্ধি করন:

ভূমিকা:
বাংলাদেশের উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়া একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। কিন্তু তাদের জন্য একমাত্র সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে “কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স”, যার শয্যা সংখ্যা মাত্র ৩১টি (সরকারি তথ্য অনুযায়ী)।
দুর্বল অবকাঠামো, চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অনুপস্থিতির কারণে জনগণ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমান অবস্থা ও সমস্যা:
★. অপর্যাপ্ত শয্যা ও অবকাঠামো:
রোগীর চাপ অনেক বেশি,
ফলে অনেককে ভর্তি না নিয়েই ফিরিয়ে দিতে হয়।
জরুরি বিভাগে জায়গার সংকট।
★ চিকিৎসক ও জনবলের ঘাটতি:
সরকার অনুমোদিত পদ থাকলেও অধিকাংশ সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকেন।
নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও সাপোর্ট স্টাফ সংকট রয়েছে।
★ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির অভাব:
আধুনিক অপারেশন থিয়েটার নেই।
এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও অন্যান্য রোগ নির্ণয় যন্ত্র সেবা অনুপস্থিত।
অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম, আইসিইউ সুবিধা নেই।
★ জরুরি চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা:
মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি।
দুর্ঘটনা, গর্ভবতী নারী ও সাপের কামড়ের রোগীদের চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে পাঠাতে হয়।
★ পরিবহন ও যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা:
দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় রোগী স্থানান্তরে সময় ও ঝুঁকি থাকে।
সংকটকালে নৌযান বা হেলিকপ্টারে রেফার করাও কঠিন।
জনগণের ভোগান্তি:
রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছে।
গর্ভবতী নারীরা সড়কে বা নৌকায় সন্তান প্রসব করছে।
কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে বিকল্প হিসেবে অপদার্থ চিকিৎসা বা প্রাইভেট ক্লিনিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
★ সী এম্বুলেন্সের সেবা কার্যকর করা
★ কর্মকর্তা – কর্মচারিদের দুর্নীতি বন্ধ করা
জনসংখ্যা: দেড লক্ষাধিক
সেবা গ্রহণকারী রোগী: গড়ে দৈনিক ২০০-৩০০ জন
চিকিৎসক পদ অনুমোদিত: ~১৮, কর্মরত ৭-৮ জন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড মতে,
প্রতি ১০ হাজার জনগণ অনুযায়ী কমপক্ষে ৫০ শয্যা প্রয়োজন

প্রস্তাবনা:
১০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন:
অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার।
★ ভবন সম্প্রসারণ
শিশু, গাইনী, মেডিসিন ও সার্জারি ইউনিট পৃথকভাবে চালু
ইনডোর-আউটডোর আলাদা ইউনিট
★. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ:
গাইনী, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, এ্যানেস্থেসিয়া, পেডিয়াট্রিক ও ইমার্জেন্সি বিভাগের জন্য পূর্ণকালীন বিশেষজ্ঞ
★আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন:
প্যাথলজি, এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনো, বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাব
অপারেশন থিয়েটার আধুনিকায়ন
সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম ও সোলার ব্যাকআপ
★. মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ইউনিট চালু:
২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি সার্ভিস
উচ্চমাত্রার প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ ও নার্স
★. আইসিইউ ও ট্রমা কেয়ার ইউনিট:
জলবায়ু দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় জরুরি চিকিৎসার জন্য অগ্রাধিকার
★. টেলিমেডিসিন সার্ভিস:
মূল ভূখণ্ডের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য অনলাইন চিকিৎসা সুবিধা

কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চলে আধুনিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি মানবিক কর্তব্য নয়, বরং জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত এই দ্বীপে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা, যাতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। এটি বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবা মান বৃদ্ধি পাবে, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে এবং মানুষের আস্থাও বাড়বে সরকারের প্রতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *