কুতুবদিয়া, ২৩ জুন, ২০২৫:
—————————– কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে এবং বিধিবহির্ভূতভাবে আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তি এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবদুল খালেক একসময় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুটি জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ‘যোগ্য আওয়ামী লীগের ঘরের মানুষ’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বলেও উল্লেখ আছে। এমনকি তৎকালীন এমপি আশেকুল্লাহ রফিক তাকে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, আইসিটি সার্টিফিকেট ছাড়াই এমপি কোটায় তাকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। ৫ই আগস্টের ঘটনার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি কেন এখনো বহাল তবিয়তে আছেন, তা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন এমপি দলীয় বিবেচনায় নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে রাতারাতি আবদুল খালেককে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে অভিভাবক মহলেও ক্ষোভ বাড়ছে। জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ‘দোসর’ কীভাবে এখনো অধ্যক্ষের পদ আঁকড়ে ধরে আছেন?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্বীপের একমাত্র মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি, বাছাই বোর্ড ও বোর্ড অনুমোদন—সব বৈধ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে অন্তর্দলীয় প্রভাব ও সুবিধাবাদী মহলের সমর্থনে তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোনো নিয়মিত নিয়োগ হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কারো পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অবৈধ দখলের অভিযোগের বিষয়টি কি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে, নাকি দলীয় প্রভাব আবারও নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কুতুবদিয়ার শিক্ষামহলে।

