
উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাবের অভিযানে র্যাব পরিচয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনার মূলহোতা মো. জায়েদ হোসেন ফারুক (২২) কে অস্ত্র, র্যাবের ইউনিফর্ম ও নকল আইডি কার্ডসহ আটক করা হয়েছে। র্যাব-১৫ আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়।
গত ১১ জুন রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫’তে বসবাসরত মো. হাফিজ উল্লাহকে র্যাব পরিচয়ে তিন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী – বরখাস্তকৃত সৈনিক সুমন, সন্ত্রাসী ফারুক ও সন্ত্রাসী শিকদার – নিজ বসতঘর থেকে ডেকে নিয়ে রঙ্গিখালী গহীন পাহাড়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে অজ্ঞাত স্থান থেকে সন্ত্রাসীরা ভিকটিমের পরিবারের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
র্যাবের তৎপরতা ও ভিকটিম উদ্ধার:
অপহরণের সংবাদ পাওয়ার পরপরই র্যাব-১৫ এর একটি দল তৎপর হয়ে ওঠে। গত ১৩ জুন, শুক্রবার, রঙ্গিখালীতে কুখ্যাত ডাকাত শাহআলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আফ্রিদি ও আব্দুল গফুর নামে দু’জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। এরপর গত ১৪ জুন, শনিবার, মরিচা বাজার থেকে মূল অপহরণকারী বরখাস্তকৃত সৈনিক মোঃ সুমন মুন্সিকে আটক করতে সক্ষম হয় র্যাব। সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন, রবিবার, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন ও বনবিভাগের আড়াই শতাধিক সদস্যের যৌথ অভিযানে অপহরণের ৭২ ঘন্টা পর ভিকটিম হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ রাউন্ড গুলি, র্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
মূলহোতা জায়েদ হোসেন ফারুক আটক ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম:
আটককৃত সন্ত্রাসীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করে। গত ২৭ জুন, শুক্রবার, হাফিজুল্লাহ অপহরণের সাথে সরাসরি জড়িত কুখ্যাত ডাকাত শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। শিকদারের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল, ২৯ জুন, রোববার, উখিয়ার মরিচ্যা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী মোঃ জায়েদ হোসেন ফারুককে আটক করে র্যাব। ফারুকের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত ৪টি র্যাবের কালো কটি, ১টি র্যাবের নকল আইডি কার্ড, ১টি হ্যান্ডকাপ, ১টি বিদেশী পিস্তল, ২টি দেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১১ রাউন্ড খালি কার্তুজ এবং ১টি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের ইউনিফর্ম তৈরির প্রক্রিয়া ও সতর্কবার্তা:
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে বরখাস্তকৃত সৈনিক সুমন র্যাবে চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কয়েক বছর আগে মিরপুরের শাহ আলী মার্কেট থেকে র্যাবের ইউনিফর্মগুলো তৈরি করেছিলেন। প্রতিটি ইউনিফর্ম তৈরিতে তিনি ২৫০-৫০০ টাকা খরচ করেছেন। সন্ত্রাসীরা এই ইউনিফর্মগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে আসছিল। র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেছে যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত পোশাক ব্যক্তিগতভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। র্যাব গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে দেশের সকল টেইলার্স ও পোশাক প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাতক সন্ত্রাসীদের সন্ধানে র্যাবের অভিযান অব্যাহত:
গ্রেফতারকৃত জায়েদ হোসেন ফারুক (২২) উখিয়া থানাধীন হলুদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আব্দুল শুক্কুর ও ছমুদা খাতুনের ছেলে। র্যাব জানিয়েছে, হাফিজুল্লাহ অপহরণের সাথে জড়িত অধিকাংশ সন্ত্রাসী আটক হলেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও কুখ্যাত ডাকাত শাহআলমসহ কয়েকজন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। পলাতক এই সন্ত্রাসীদের ধরতে র্যাবের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
