এনসিপিতে ভাঙনের সুর

মতামত

আদর্শের লড়াই নাকি ক্ষমতার সমীকরণ? যে উদ্দীপনা নিয়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপি রাজপথে এসেছিল, বছর না ঘুরতেই সেই ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ দেয়ালে ফাটল ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যেন দলটির ভেতর এক ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ সৃষ্টি করেছে।
​তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: পদত্যাগের হিড়িক
​এককভাবে ৩০০ আসনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করা এনসিপি কেন হঠাৎ জোটের পথে হাঁটল—এই প্রশ্ন এখন দলটির ভেতর-বাইরে। জামায়াতের সাথে এই নির্বাচনী সখ্যতাকে মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলের অনেক ত্যাগী কর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের অভিযোগ, এনসিপি তার মৌলিক চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে পুরোনো ধারার রাজনীতির সাথে ‘আত্মমর্যাদাহানিকর’ আপস করেছে।
​ফলাফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে—ফেসবুক থেকে রাজপথ, সর্বত্রই এখন পদত্যাগের ঘোষণা। বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যে নতুন ধারার রাজনীতির স্বপ্ন তরুণরা দেখেছিল, এই জোটবদ্ধ হওয়া সেই স্বপ্নে বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন পদত্যাগকারীরা।
​শীর্ষ নেতৃত্বের সাফাই: ‘সাময়িক অস্থিরতা’
​তবে এতো কিছুর পরও দমে যেতে নারাজ এনসিপির শীর্ষ পর্যায়। তাদের দাবি:
​বর্তমান অস্থিরতা স্রেফ সাময়িক।
​বৃহত্তর স্বার্থে এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই এই কৌশলগত জোট।
​অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের পক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *