কুতুবদিয়া, ১৯ জুন ২০২৫: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে তার কর্মকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, দুর্নীতি এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা তার পুরো কর্মকালকে “ফ্যাসিবাদী সরকারি দলের একজন প্রভাবশালী নেতার মতো” হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা পিবিআইতে কর্মরত থাকলেও, দ্বীপবাসীর মাঝে তার অপকর্মের রেশ ধরে এখনো গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য অভিযোগসমূহ হলো:
* শিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ বিনাশ: অসংখ্য শিক্ষিত বেকার যুবককে বিএনপি-ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার হিসেবে মিথ্যা প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বহু যুবক চাকরি পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন এবং অনেকের চাকরির বয়সও উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
* নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার: বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেটে নেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে টাকা বিলি করার অভিযোগ উঠেছে। যারা তার কথায় রাজি হননি, তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নাজেহাল করে তটস্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে।
* ইয়াবা কারবারে যোগসাজশ: প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারিদের সাথে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে শুধুমাত্র কিছু ছোটখাটো ইয়াবা কারবারিকে গ্রেফতার দেখিয়ে তিনি দায় এড়াতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
* মিথ্যা মামলা ও হয়রানি: বহু নিরীহ মানুষকে সাজানো অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, ভুয়া ও গায়েবি মামলা দিয়ে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নজিরবিহীন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
* ‘ক্রসফায়ার’ নাটকের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড: বড় কোনো অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ‘ক্রসফায়ার’ নাটকের মাধ্যমে দুজন নিরীহ মানুষকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
* ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা: তার কর্মকালে কুতুবদিয়ায় কোনো ধর্মীয় ওয়াজ-মাহফিল করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
* ইউএনও’র স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি: তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতি মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
* ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড ও সন্দেহ: তার ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকে তাকে “ইহুদিচক্রের এজেন্ট (মোসাদের)” হিসেবে সন্দেহ করেন। ‘নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর’ স্লোগানকে জঙ্গিবাদের স্লোগান হিসেবে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদরাসা এবং মিটিং-সমাবেশে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
* অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজি: ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লেমশীখালীর ইউপি সদস্য ইসহাকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং তার ভাই মিজানকে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে বহু নিরীহ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
* মিটিং-সমাবেশে ফ্যাসিবাদী বক্তব্য: বিভিন্ন মিটিং-সমাবেশে তিনি একজন দাপুটে ফ্যাসিবাদী নেতার মতো বক্তব্য দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মোটা অঙ্কের দাবি মেটাতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই ব্যক্তিদেরকে চোর-ডাকাত ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী ক্যাডার হিসেবে তকমা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তার পা-চাটা ফ্যাসিবাদী মহল থেকে সমর্থন আদায় করতেন বলেও জানা যায়।
* পারিবারিক সম্পর্কে হস্তক্ষেপ: তার অনৈতিক হস্তক্ষেপে একাধিক শিক্ষিত ব্যক্তির ঘর-সংসার ভেঙেছে, যার কারণে ওই পরিবারের ছেলে-মেয়েরা আজীবন ভুক্তভোগী হয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মূলত কিছু অশিক্ষিত ও স্বৈরাচারের দোসর সাংবাদিক এবং দালালের সহযোগিতায় এই কুখ্যাত ওসি এত অপকর্মে লিপ্ত হতে পেরেছিলেন। বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পরও তার মতো ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে থাকায় এবং থানা দালাল মুক্ত না হওয়ায় মজলুম দ্বীপবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

