হত্যা মামলায় সাবেক এমপি জাফর আলমের ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর: চকরিয়ায় কড়া নিরাপত্তা ও উত্তেজনা
চকরিয়া, ১৮ জুন ২০২৫:
————————————
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলমকে আজ চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৭টি হত্যা মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই চকরিয়া আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন।
জাফর আলমকে আদালতে হাজির করার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে চকরিয়া সিস্টেম কমপ্লেক্স ও পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল, যেখানে জাফর আলমের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অপরদিকে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া পুলিশি প্রহরায় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রিজন ভ্যানে করে জাফর আলমকে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করা হয় এবং ৯টা ১০ মিনিটের দিকে প্রিজন ভ্যান চকরিয়া আদালতে পৌঁছে যায়।
জাফর আলমকে আদালতে উপস্থিত করার আগেই বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হকের নেতৃত্বে চকরিয়া পৌরসভার সিস্টেম কমপ্লেক্স থেকে চকরিয়া মগবাজার আদালত পাড়ার দিকে এক বিশাল মিছিল রওয়ানা হয়। মিছিলটি চকরিয়া থানা সেন্টার পার হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক সেন্টারে পৌঁছার পরপরই প্রশাসন তাদের মিছিল না করার জন্য অনুরোধ জানায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের মিছিল আদালত পাড়ার দিকে এগুতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পরও কিভাবে প্রশাসনের সামনে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি প্রকাশ্যেই হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মিছিল করে?” তাদের মতে, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে।
মূলত, জাফর আলমকে চকরিয়ার আলোচিত পৃথক ৭টি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়। নিহতরা হলেন কাকারা’র শহিদ মিজান, হালকাকারা’র বাদশা, নামার চিরিঙ্গার জাকের হোসেন, শহিদ আব্দুল হালিম, শহিদ মনজুর আলম, শহিদ আকতার কামাল এবং শহিদ ফোরকান। এই ব্যক্তিরা ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চকরিয়ার রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
আজ জাফর আলমকে আদালতে উপস্থিত করাকে কেন্দ্র করে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। এদিকে, বিএনপির ৬ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা (বিএনপি) তাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, মাওলানা ফোরকান দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজায় উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে জাফর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন। জামায়াত ইসলাম মাওলানা ফোরকানকে তাদের কর্মী হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে আজকের ঘটনায় তাদের কোনো কার্যক্রম না থাকায় সাধারণ জনগণ হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শুনানি কার্যক্রম শেষে চকরিয়ার পৃথক ৭টি মামলায় জাফর আলমের ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এরপর তাকে পুলিশ প্রহরায় চকরিয়া থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

