টেকনাফে নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন: ছাত্র অধিকার পরিষদের আন্দোলনের ফসল, আজ হলো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

উপজেলা


কক্সবাজার, ১৮ জুন ২০২৫: টেকনাফে আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেনা ক্যাম্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সাফল্যের পেছনে যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তারা এখন তাদের অবদানের পূর্ণ স্বীকৃতি দাবি করছেন। বিশেষ করে, ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জোরালোভাবে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, টেকনাফে সেনা ক্যাম্প স্থাপনসহ নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক নানা দাবিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে টেকনাফের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গেছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলো।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ – কক্সবাজার জেলা একমাত্র রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে বিশেষভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সেনা ক্যাম্প স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আল্টিমেটাম প্রদান করেছিল। তাদের দৃঢ় অবস্থান এবং লাগাতার আন্দোলনের ফলেই টেকনাফের জনগণের দীর্ঘদিনের এই আকাঙ্ক্ষা আজ বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
এ প্রসঙ্গে ছাত্র নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দাবিগুলোর কৃতিত্ব যদি কেউ দাবি করে, তবে তা ছাত্রসমাজ, বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদই নেবে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “যারা মাঠে ছিল না, সংগ্রামে ছিল না—তারা যদি এখন অভিভাবকের মুখোশ পরে ক্রেডিটবাজি করতে আসে, তাদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দাও।”
তারা আরও উল্লেখ করেন যে, টেকনাফ সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য অন্য কোনো সংগঠন সরাসরি তদবির, আলোচনা বা আন্দোলন করেনি। একমাত্র রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্র অধিকার পরিষদ কক্সবাজারে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, যার সুফল আজ টেকনাফের জনগণ ভোগ করছেন।
আজ ১৮ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ সেনা ক্যাম্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে টেকনাফের নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই সাফল্য মূলত তরুণ ছাত্রসমাজের অদম্য সাহস, প্রত্যয় এবং আন্দোলনের ফল, যা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের যেকোনো জনদাবির আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *