কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: পেকুয়া উপজেলার মগনামা-কুতুবদিয়া বড়ঘোপ নৌ-রুটে যাত্রী পারাপারে চরম ভোগান্তি ও হয়রানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষভাবে ইজারাদারের কর্মচারীদের হাতে যাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছেন, যা প্রতিদিনের যাতায়াতে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাংলা নববর্ষ থেকে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘাটে পৌঁছালেই যাত্রীদের হয়রানি শুরু হয়। সামান্য অজুহাতে নৌকায় ওঠার সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিত্যদিনের ঘটনা। নারীদের জন্য আলাদা যাতায়াত বা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমনকি গর্ভবতী নারী ও শিশুদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, ঘাটে কোনো স্থায়ী ছাউনিযুক্ত টার্মিনাল, নিরাপদ যাত্রী ছাউনি বা বিশ্রামাগার নেই। জরুরি সুরক্ষার জন্য লাইফ জ্যাকেটেরও অভাব রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ডেনিশ বোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয়, যা বর্ষাকালে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও, কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার মহল এই নৌঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হয়রানি ও অনিয়মের মাধ্যমে ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী হয়রানি বন্ধে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনগণ।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যাত্রী জানান, কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মচারী ঘাটে ‘নতুন জামাইর মতো সেবা’ পান, যার কারণে তারা কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন না।
এই রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি এই হয়রানি চলতেই থাকবে?