কুতুবদিয়ার প্রধান সডক ( আজম রোড) মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন ৪ লেনে উন্নীতকরণের দাবি

উপজেলা

 

কুতুবদিয়ার সরু ও নড়বড়ে আজম রোড দ্রুত মেরামত ও ৪ লেনে উন্নীতকরণের দাবি দ্বীপবাসীর।
ধীর গতিতে চলমান মেরামত কাজে পুকুরচুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলার প্রধান সড়ক আজম রোড (জেড- ১০৭৬), যা উত্তর ধুরুং ঘাট থেকে দক্ষিণে আলীআকবর ডেইল পর্যন্ত বিস্তৃত—এটি দ্বীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও দ্বীপবাসী চলাচল করে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে হচ্ছে,
এই সড়ক বর্তমানে অতিমাত্রায় সরু, ভঙ্গুর ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দ ও বৃষ্টির পানিতে সড়কের বড় অংশ ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। জরুরি রোগী পরিবহন, পণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপ কুতুবদিয়া এখন জলবায়ু উদ্বাস্তু, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার এ করুণ দশা দ্বীপবাসীকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে।
তাই দ্বীপবাসী ও সচেতন নাগরিকগণ জোর দাবি জানাই—আজম রোড দ্রুত মেরামত ও ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
প্রতিবারই কার্পেটিং ও সিল-কোট ধরনের অস্থায়ী সংস্কার হয়েছে, কাজে অনিয়ম হওয়ায় যা কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ভেঙে পড়ে।
বাস্তবতা হচ্ছে—বহু বছরের চাহিদা থাকলেও আজম রোড কখনও প্রশস্তকরণ বা টেকসই পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন হয়নি।
দৃঢ় টেকসই সমাধান: শুধু কার্পেটিং নয়, মূল ভিত্তি (base/subbase) শক্তিশালী করে পুরো রোডের পুনর্নিমাণ প্রয়োজন।
আর্থিক ও পরিবহণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দীর্ঘমেয়াদি বরাদ্দ ও টেকনিক্যাল নিরীক্ষণ দরকার, বাজেট বারবার টেন্ডার করে মাত্র সাময়িক সংস্কার করা উচিত নয়।
পূর্ববর্তী সংস্কার তথ্য –
২০১১–১২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ বার এই সড়কের আংশিক সংস্কার হয়েছে।
অর্থবছর ২০১১-১২
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ধুরুং বাজার থেকে আকবরবলী ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল সওজ কর্তৃক ।
. অর্থবছর ২০১২ – ১৩
ডিসি রোড থেকে বিদ্যুৎ মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১ কিমি রাস্তা সংস্কার করা হয়, কিন্তু এখন তা ভেঙে গেছে ।
. ২০২১‑২০২২ (টেন্ডার : ডিসেম্বর ২০২১)
আজম রোডের ১১কিমি থেকে ১৪কিমি পর্যন্ত ড্যামেজড পেভমেন্টের জন্য carpeting & seal‑coat কাজের টেন্ডার নেওয়া হয় ।
২০২২‑২০২৩ (টেন্ডার : জানুয়ারি ২০২৩)
১৫ কিমি – ১৮ কিলোমিটারে একই ধরনের
পেভমেন্ট রিরেপেয়ার টেন্ডার নেওয়া হয় ।
২০২৪‑২০২৫ (টেন্ডার : ডিসেম্বর ২০২৪)
নতুন করে পুনরায় ১৩ কিমি, ১৪ কিমি, ১৭ কিমি, ১৮ কিমি এসব স্থানে carpeting এবং seal‑coat কাজের টেন্ডার প্রকাশিত হয় ।
ইতোপূর্বে সংস্কারের পর্যায়-
প্রারম্ভিক মেরামত (২০১১-১৩):
২ ধাপে (২০০১–১২, ১২–১৩ অর্থ বছর।
সম্প্রতি টেন্ডারভিত্তিক সংস্কার:
এখনও পর্যন্ত ৩ ধাপে চলমান :.
কচ্ছপ গতিতে চলছে —-
২০২১‑২২ (১১ – ১৪ কিমি)
২০২২‑২৩ (১৫ – ১৮ কিমি)
২০২৪‑২৫ (১৩- ১৪, ১৭ – ১৮ কিমি)
ইতোপূর্বে সংস্কার হয়েছে মোট ৬ বার: প্রথম দুইটি ছিল মিড‑বজেটে স্থানীয় প্রকল্প হিসেবে, পরের তিনটি
বছর ভিত্তিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিচালিত।
দ্বীপবাসীর দাবি:
১. আজম রোডকে ৪ লেনে উন্নীত করে আধুনিক, প্রশস্ত ও টেকসই সড়ক নির্মাণ করতে হবে।
২. সড়কটির সাব-বেইস ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক রেখে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বরাদ্দকৃত অর্থ যেন দুর্নীতিমুক্ত ও প্রকৃতভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
৪. সড়কের দুই পাশে ফুটপাত ও রাতের আলোয় চলাচলের জন্য স্ট্রিট লাইট ও রোড সাইন স্থাপন করতে হবে।
কুতুবদিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে এই উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *