কুতুবদিয়ার চতুর্পাশে সুপার ডাইকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ চায় দ্বীপবাসী—-

উপজেলা
কুতুবদিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখযোদ্ধা। দ্বীপবাসীর টিকে থাকার লড়াইয়ে টেকসই সুপার ডাইক এখন সময়ের দাবি। সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ পদক্ষেপই পারে এই দ্বীপকে রক্ষা করতে।
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দ্বীপ কুতুবদিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক শিকার। উপকূলীয় ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দ্বীপটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে দ্বীপের চারপাশে সুপার ডাইক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় —
★ ভূমি বিলীন বিগত ৫০ বছরে প্রায় ৪০% এলাকা সাগরে বিলীন
★ জলোচ্ছ্বাসে বছরে ৪-৫ বার উচ্চ জোয়ারে প্লাবন ঘটে
★ ঘূর্ণিঝড় গড়ে প্রতি ২-৩ বছরে একবার বড় ঘূর্ণিঝড়
★ লবণাক্ততা সুপেয় পানি সংকট ও কৃষিক্ষেত্রের ধ্বংস
★ বাঁধ ভেঙে যাওয়া পুরনো বেড়িবাঁধ নাজুক,
প্রতি বর্ষায় ভেঙে যায়:
★ দ্বীপবাসীর দাবি কেন যৌক্তিক?
জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা:
বাড়ি, কৃষিজমি, বিদ্যালয়, মসজিদ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে চলে যায়
★ জলবায়ু অভিবাসন ঠেকানো:
প্রতি বছর শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে
কুতুবদিয়া একটি জলবায়ু উদ্বাস্তু উৎপাদনকারী এলাকা
★ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা:
কৃষি, লবণ ও মৎস্যজীবীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে
কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়বে → আয়তেও স্থায়িত্ব আসবে
★. দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন:
SDG-13 (জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা) ও SDG-11 (সহনশীল নগর ও বসতি) অর্জনে সহায়ক
বেড়িবাঁধ থাকলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও টিকে থাকবে।
★ সুপার ডাইক কী?
সুপার ডাইক হলো জাপানের অনুকরণে নির্মিত উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন উপকূলীয় সুরক্ষা বাঁধ যা জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপ্লাবন ঠেকাতে সক্ষম।
সুপার ডাইক = উপকূলীয় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে কার্যকর করে।
সুপার ডাইকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
কংক্রিট ও বালিভর্তি জিওব্যাগের মাল্টি-লেয়ারের গঠন
উচ্চতা ১৫-২০ ফুট, প্রশস্ততা ২০-৩০ ফুট
পিচঢালা বা ব্লক পাকা সড়ক সমন্বিত বেড়িবাঁধ
★ সরকারি ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজন:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), পাউবো (BWDB) ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (CRIMC) -এর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান
Green Climate Fund, UNDP, ADB-এর সহযোগিতা প্রয়োজন।
দ্বীপের বাসিন্দার বক্তব্য :
টেকসই বেড়িবাঁধ না দিলে তাদের পরিবার কিছুদিন পর জোয়ারে একদম সাগরে ভেসে যাবে। ঘর করে আবার জোয়ারে ভেসে যায়!”
প্রস্তাবনা:
1. জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত
2. প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনা প্রকৌশল ইউনিট দিয়ে ডিজাইন অনুমোদন
3. দ্বীপের চারপাশে ৪০-৫০ কিমি সুপার ডাইক নির্মাণ
4. স্থানীয়দের নিয়োগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
5. আন্তর্জাতিক অনুদান ফান্ড সংগ্রহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *